কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (Kisan Credit Card - KCC) হলো একটি সরকারি উদ্যোগ, যা ভারতের কৃষকদের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে। ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ও কম সুদের হারে বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদির জন্য ঋণ নিতে পারেন। NABARD-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্প ২০২০ সালে আরও ডিজিটাল ও RuPay কার্ড-সংযুক্ত করা হয়েছে।
কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা:
১. স্বল্প সুদের হার
৩ লাখ টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণে বেস রেট ৭%, যার উপর সরকার ১.৫% সুদ ভর্তুকি দেয়। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করলে আরও ৩% ছাড় মেলে, ফলে কার্যকর সুদের হার দাঁড়ায় মাত্র ৪%।
২. বর্ধিত ঋণসীমা (নতুন)
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ থেকে KCC-এর ফসল ঋণের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে, আর মৎস্য ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্যও একই সীমা প্রযোজ্য। জামানত-মুক্ত ঋণের সীমাও প্রতি কৃষকের জন্য ২ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
৩. সুবিধাজনক ঋণ প্রক্রিয়া
ATM বা ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি টাকা তোলা যায় — বারবার ব্যাংকে যাওয়ার দরকার নেই।
৪. আদায়ের সুবিধা
ফসল কাটার পর ঋণ পরিশোধ করা যায়, যা কৃষকের আয়ের সময়ের সাথে মিলে যায়। ৫ বছর পর্যন্ত রিভলভিং ক্রেডিট সুবিধাও আছে।
৫. বীমা সুবিধা
KCC-র সাথে ফসল বীমা ও ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা যুক্ত থাকে, যা কৃষকের জীবন, শারীরিক অক্ষমতা ও ফসলহানির ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ১ বছর (গুরুতর ক্ষেত্রে ৫ বছর পর্যন্ত) সুদ মকুবের সুবিধাও রয়েছে।
৬. বহুমুখী ব্যবহার
শুধু ফসল উৎপাদন নয়, গবাদি পশু পালন, মাছ চাষ, মৌমাছি পালনের মতো সংশ্লিষ্ট কাজেও এই ঋণ ব্যবহার করা যায়।
আবেদন প্রক্রিয়া:
- নিকটস্থ সরকারি বা প্রাইভেট ব্যাংকে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
- জমির দলিল, পরিচয়পত্র (আধার বাধ্যতামূলক) ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
যোগ্যতা:
- ভারতীয় কৃষক, জমির মালিক-চাষী, যৌথ ঋণগ্রহীতা, ভাগচাষী, স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) ও যৌথ দায়বদ্ধতা গোষ্ঠী (JLG) — সবাই আবেদনযোগ্য।
- ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরাও এই সুবিধা নিতে পারেন।
