কৃষিক্ষেত্রে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধুনিক ও উন্নত চাষাবাদের কয়েকটি ধারণা নিচে তুলে ধরা হলো — যা প্রযুক্তি ও কৃষির সংমিশ্রণ সম্পর্কে ধারণা দেবে।
১. সেন্সর-ভিত্তিক মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা
মাটির আর্দ্রতা, পুষ্টির মাত্রা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সেন্সর বসিয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা দিয়ে সঠিক সময়ে জলসেচ ও পুষ্টি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
২. ড্রোন ব্যবহার করে ফসল পর্যবেক্ষণ
আকাশপথ থেকে ড্রোন দিয়ে ফসলের স্বাস্থ্য ও ক্ষতি দ্রুত চিহ্নিত করে সঠিক সময়ে কীটনাশক প্রয়োগ বা সার দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
৩. স্মার্ট সেচ পদ্ধতি
ড্রিপ ইরিগেশন ও সেন্সরের মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা মেপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ দেওয়া হয়, ফলে পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
৪. IoT-ভিত্তিক ফসল ব্যবস্থাপনা
স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে সংযুক্ত ডিভাইসের মাধ্যমে সেচ, সার প্রয়োগ ও পরিবেশগত অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
৫. ফসলের ফলন পূর্বাভাস
পূর্বের ডেটা ও আবহাওয়ার তথ্য দিয়ে মেশিন লার্নিং মডেলের মাধ্যমে কোন মৌসুমে কোন ফসল ভালো ফলন দেবে তার পূর্বাভাস পাওয়া যায়।
৬. স্মার্ট গ্রিনহাউজ নিয়ন্ত্রণ
স্বয়ংক্রিয় সেন্সর দিয়ে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও আলো নিয়ন্ত্রণ করে সারা বছর সবজি ও ফুলের উৎপাদন বজায় রাখা যায়।
৭. AI-ভিত্তিক নির্দিষ্ট-লক্ষ্য কীটনাশক প্রয়োগ
সেন্সর বা ড্রোনের মাধ্যমে কীটপতঙ্গ চিহ্নিত করে শুধু আক্রান্ত এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, যাতে পরিবেশ ও ফসলের ক্ষতি কম হয়।
কৃষি ড্রোনে সরকারি ভর্তুকি (নতুন সংযোজন)
কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি মশীনীকরণ উপ-মিশন (SMAM) প্রকল্পের আওতায় কৃষি ড্রোন কেনায় ভর্তুকি দেওয়া হয়:
- কৃষক উৎপাদক সংস্থা (FPO)-র জন্য ড্রোনের দামের ৭৫% পর্যন্ত ভর্তুকি।
- কৃষি স্নাতকদের কাস্টম হায়ারিং সেন্টার (CHC) স্থাপনের জন্য ড্রোনের দামের ৫০% (সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা) পর্যন্ত ভর্তুকি।
- ICAR প্রতিষ্ঠান, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (KVK) ও রাজ্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১০০% ভর্তুকি (সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা)।
- ২০২৩ সালে অনুমোদিত নমো ড্রোন দিদি প্রকল্পের আওতায় মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোকেও ড্রোন দেওয়া হচ্ছে, যা তারা কৃষকদের ভাড়া দিতে পারেন।
এই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও পানির অপচয় রোধ সম্ভব। ভর্তুকির সুযোগ নিতে স্থানীয় কৃষি দপ্তর বা KVK-তে যোগাযোগ করতে পারেন।
