PM-KISAN বনাম কৃষক বন্ধু ২০২৬: কে কত টাকা পাবেন, দুটো একসাথে পাওয়া যাবে কি?
📢 আপডেট (সেপ্টেম্বর ২০২৬): পশ্চিমবঙ্গের কৃষি প্রকল্পগুলোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এই পোস্টটি হালনাগাদ করা হলো। নিচে যা নিশ্চিত/কার্যকর তথ্য এবং যা এখনো ঘোষণা/প্রতিশ্রুতি পর্যায়ে আছে, তা আলাদা করে দেখানো হয়েছে, যাতে আপনি বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কেন এই দুটো প্রকল্প নিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত হন
পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য — দুই স্তরের সরকারই আলাদা আলাদা আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালায়। নাম কাছাকাছি হওয়ায় এবং দুটোই কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর কারণে (DBT), অনেকেই দুটোকে গুলিয়ে ফেলেন। নিচে দুটো প্রকল্পের সম্পূর্ণ তুলনা দেওয়া হলো।
✅ যা নিশ্চিত ও কার্যকর
PM-KISAN (কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প)
- সারা দেশের কৃষকদের জন্য প্রযোজ্য, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়
- বছরে ₹৬,০০০ টাকা, তিনটি সমান কিস্তিতে (প্রতি কিস্তি ₹২,০০০, প্রতি চার মাস অন্তর)
- সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্প আরও ৫ বছরের জন্য (২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত) বাড়িয়েছে
- অঙ্কে কোনো পরিবর্তন হয়নি, ₹৬,০০০-ই বহাল আছে
- জমির পরিমাণ ভেদে অঙ্কে কোনো তারতম্য নেই — যোগ্য প্রতিটি কৃষক পরিবার একই অঙ্ক পান
কৃষক বন্ধু (পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রকল্প)
- শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য
- ১ একর বা তার বেশি জমি থাকলে বছরে সর্বোচ্চ ₹১০,০০০ (₹৫,০০০ + ₹৫,০০০, খারিফ ও রবি মরসুমে)
- ১ একরের কম জমি থাকলে জমির অনুপাতে বছরে সর্বনিম্ন ₹৪,০০০
- নথিভুক্ত ভাগচাষী/বর্গাদাররাও প্রকল্পের আওতায় আসেন
- ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের জন্যও সাম্প্রতিক সংযোজন অনুযায়ী বছরে ₹৪,০০০ সহায়তা চালু হয়েছে
- ১৮-৬০ বছর বয়সী নথিভুক্ত কৃষকের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার এককালীন ₹২ লক্ষ পায় — এই সুবিধা PM-KISAN-এ নেই
⏳ যা এখনো ঘোষণা/প্রতিশ্রুতি পর্যায়ে — সতর্কতার সাথে পড়ুন
পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য কেন্দ্রের ₹৬,০০০-এর সাথে রাজ্যের অতিরিক্ত ₹৩,০০০ যোগ করে মোট ₹৯,০০০ দেওয়ার একটা ঘোষণা/প্রতিশ্রুতি সামনে এসেছে। এটা রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে জড়িত।
এই মুহূর্তে যা স্পষ্ট নয়:
- এই ₹৯,০০০ পুরোপুরি বাস্তবায়িত ও কার্যকর হয়েছে কিনা
- বাস্তবায়ন হলে তা কবে থেকে, কোন প্রক্রিয়ায় কৃষকদের অ্যাকাউন্টে আসবে
- এটা কৃষক বন্ধুর জায়গা নেবে, নাকি আলাদাভাবে চলবে
তাই এই ₹৯,০০০ সংখ্যাটা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি ঘোষণা বা নোটিফিকেশন নিজে দেখে নিন।
PM-KISAN ও কৃষক বন্ধু কি একসাথে পাওয়া যাবে?
- আইনগতভাবে দুটো আলাদা স্তরের সরকারের (কেন্দ্র ও রাজ্য) সম্পূর্ণ আলাদা প্রকল্প, তাই নীতিগতভাবে দুটোতেই আবেদন ও সুবিধা পাওয়ার ওপর সরাসরি কোনো বাধা নেই
- তবে পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উপভোক্তা ভেরিফিকেশনের কাজ এখনো চলমান থাকায়, বাস্তবে দুটো প্রকল্প একসাথে চলবে নাকি একটা আরেকটার জায়গা নেবে — তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়
- তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরামর্শ: নিজের এলাকার কৃষি দপ্তর বা ব্লক অফিসে সরাসরি গিয়ে সাম্প্রতিক অবস্থা জেনে নিন
যোগ্যতার শর্ত — দুই প্রকল্পে কী লাগে
PM-KISAN-এর জন্য:
- চাষযোগ্য জমির মালিকানার নথি (RoR/খতিয়ান)
- আধার কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (আধার লিঙ্কড)
- প্রাতিষ্ঠানিক জমির মালিক, আয়কর প্রদানকারী, সরকারি পেনশনভোগী (নির্দিষ্ট সীমার ওপরে) ইত্যাদি বাদ পড়েন
কৃষক বন্ধুর জন্য:
- জমির পরচা বা বর্গা নিবন্ধন সার্টিফিকেট
- আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ব্যাংক পাসবুক
দুই প্রকল্পের তুলনা এক নজরে
| বিষয় | কৃষক বন্ধু | PM-KISAN |
|---|---|---|
| পরিচালনা করে | রাজ্য সরকার | কেন্দ্রীয় সরকার |
| প্রযোজ্য এলাকা | শুধু পশ্চিমবঙ্গ | সারা দেশ |
| বার্ষিক সহায়তা | ₹৪,০০০–₹১০,০০০ | ₹৬,০০০ |
| কিস্তি | ২টি | ৩টি |
| ভূমিহীন শ্রমিক | ₹৪,০০০ (সাম্প্রতিক সংযোজন) | প্রযোজ্য নয় |
| মৃত্যুজনিত সহায়তা | ₹২ লক্ষ | নেই |
স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করবেন
- কৃষক বন্ধু: krishakbandhu.wb.gov.in → নাম/জেলা/আবেদন নম্বর দিয়ে সার্চ করুন
- PM-KISAN: pmkisan.gov.in → "Farmers Corner" → "Beneficiary Status" → আধার নম্বর/মোবাইল/অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে চেক করুন
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: আমি কি দুটো প্রকল্পেই একসাথে আবেদন করতে পারি? উত্তর: আইনগত বাধা নেই বলেই জানা যাচ্ছে, তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো চলমান — নিশ্চিত হতে ব্লক অফিসে যোগাযোগ করুন।
প্রশ্ন: ₹৯,০০০ কবে থেকে পাওয়া যাবে? উত্তর: এই মুহূর্তে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সরকারি নোটিফিকেশনের অপেক্ষায় থাকুন।
প্রশ্ন: দুই প্রকল্পের জন্য কি আলাদা আলাদা আবেদন করতে হয়? উত্তর: হ্যাঁ, দুটো সম্পূর্ণ আলাদা প্রকল্প হওয়ায় আলাদা আলাদা আবেদন ও নথিপত্র প্রয়োজন।
এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য দেওয়া হলো। যেহেতু এই মুহূর্তে প্রকল্পগুলোতে পরিবর্তন চলমান, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি পোর্টাল বা স্থানীয় কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন। এই ব্লগ কোনো সরকারি ওয়েবসাইট নয়।

